শেরপুরে মারুফ নামে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার॥ পরিবারের দাবী হত্যা

Views
Charu Barta24 । । চারু বার্তা ২৪


স্টাফ রিপোর্টার:
শেরপুর পৌরসভার ঢাকলহাটি মহল্লার আরবি রাইস মিলের গোডাউনের চালের উপর থেকে মারুফ (১৬) নামে এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার ৪ এপ্রিল বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় লোক ও মিল শ্রমিকদের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ওই কিশোরের লাশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। কিশোর মারুফ ঢাকলহাটী মহল্লার মৃত ইমান আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ঢাকলহাটি মহল্লার আর.বি অটো রাইস মিলটি ২/৩ মাস বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছিল। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি মেহেদি হাসানসহ কয়েকজন শ্রমিক ওই মিলের ড্রায়ারের চালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচে এক কিশোরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে মিল মালিক আব্দুর রহিমকে জানায়। পরে সদর থানায় খবর দেয়া হলে সদর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল গিয়ে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। পরে তার পরিহিত ট্রাউজারের ডান পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়।

নিহতের ভাই মামুন জানায়, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারুফ বাড়িতে ভাত খায়। পরে তার মুঠোফোনে জরুরি কল আসলে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত গভীর হলেও মারুফ বাড়িতে না আসলে আমরা পরিবার থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। তাকে না পেয়ে ওই রাতেই আমরা বাড়িতে এসে পরি। পরবর্তী আজ রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনতে পাই আরবি রাইস মিলে একটি লাশ পাওয়া গেছে। দৌড়ে দেখতে গিয়ে দেখি আমার ভাই মারুফের লাশ পড়ে আছে। আমাদের ধারনা কেউ ঢেকে নিয়ে মারুফকে মেরে ফেলেছে। এমন রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

নিহতের চাচা হাসান জানায়, মারুফ একজন নিরিহ প্রকৃতির ছেলে তার সাথে এলাকার কারও ঝগড়া কিংবা বিরোধ ছিলোনা। মারুফ কখন এই আরবি রাইস মিলে গিয়েছে আমরা দেখিনি। এটি একটি সন্দেহজনক মৃত্যু। যেখানে মৃতদেহটি পাওয়া গিয়েছে মেইন গেইট ব্যতীত ওইখানে বিকল্প কোন রাস্তা নেই। তাই আমরা মনে করছি মারুফকে যদি কেউ সেখানে নিয়ে যায় তাহলে মেইন গেইট হয়ে নিয়েছে।পুরো রাইস মিল সিসিক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রনে থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছেন তা নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

আরবি রাইস মিলের পাহাড়াদার অকিল চন্দ্র ডালু বলেন, আমি রাত্রি ২ টা পর্যন্ত কাউকে এ গেট দিয়ে যাইতে দেখিনি এবং কি কোন শব্দ শুনতে পায়নি।

স্থানীয়রা আরো জানান, এই মিলে প্রতিবছরই একটা না একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত একই স্থানে প্রায় ৫ থেকে ৭ জন গুরুত্বর আহত ও পঙ্গুত্ব বরন করেছেন। কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রতিবছর বিদ্যুতের লাইনের মাধ্যমেই একেকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যাহারা পঙ্গুত্ব বরন করেছেন তারা হলেন এই মিলের পাহারাদার মিরন, রাজমিস্ত্রি সিদ্দিক মিয়া, ট্রলি ড্রাইভার রাজু আহমেদ, সিটিংমিস্ত্রি আল-আমীন ও শাওন মিয়া। এদিকে প্রত্যেককে ক্ষতিপূরন বাবদ আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন মিল মালিক কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের এমন অলসতা ও দায়িত্বহীনতার ফলেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

আরবি রাইস মিলের মালিক রহিম বিল্লাহ জানান, এ ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তবে ধারনা করা হচ্ছে বিদ্যুয়ায়িত শর্টে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। সঞ্চালন লাইনটি সড়াতে বেশ কয়েকবার পিডিবিকে জানিয়েছিলাম। তারা লাইনটি সরায়নি।

এ বিষয়ে শেরপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার দে বলেন, আমি শেরপুরের বিদ্যুৎ বিভাগে প্রায় ২ বছর যাবত রয়েছি এই মিলে এমন সমস্যার কথা কখনো শুনিনি। আমাদের কাউকে কখনো অবগত করা হয়নি। আমরা জানলে অবশ্যই সমস্যা সমাধান করতাম।

এব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত মারুফের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট শেষে বলা যাবে এটি কিসের মৃত্যু। সেই সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Charu Barta24 । । চারু বার্তা ২৪

মন্তব্য করুন