শ্রীবরদীতে আলোচিত বাবু হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আল আমিন সহ গ্রেফতার-২

Views
Charu Barta24 । । চারু বার্তা ২৪


ফরিদ আহম্মেদ রুবেল:
শেরপুরের শ্রীবরদীতে আলোচিত ইটভাটা শ্রমিক সোহেল মিয়া ওরফে বাবু হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আল আমিন (৩৫) কে গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিয়ামতলী বাজার থেকে গ্রেফতার করেছে শ্রীবরদী থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত কাঠমিস্ত্রী আল আমিন নয়ানী শ্রীবরদী এলাকার ইমার উদ্দিন মোল্লার ছেলে ও নিহত বাবুর চাচাতো ভাই। হত্যা মামলাটির তদারকির দায়িত্বে থাকা শেরপুর জেলা পুলিশের জৈষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে ও.সি মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে এস.আই রোকন উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে। অপরদিকে সোমবার ভোর সকালে সন্ধী ভাজন আসামী হিসেবে একই গ্রামের মৃত জবেদ আলীর পুত্র ওয়াহেদ আলী ভেদু (৫৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

সে নিহত বাবুর চাচা। গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে গত রোববার এ মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার ওয়াহেদ আলী ভেদুকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে শেরপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। রোববার রাতে শেরপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারকের নিকট হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রদান করেছে গ্রেফতারকৃত আল আমিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই রোকন উদ্দিন বলেন, বাবু হত্যা মামলার এজহার নামীয় ৩ জন ও সন্দেহ ভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো হাফিজুর রহমান, হারুন রশিদ সদা, ইস্রাফিল মিয়া, আমির হামজা, রাকিব মিয়া, আল আমিন ও ওয়াহেদ আলী ভেদু। এ মামলার অন্যতম আসামী আল আমিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নিকট জবানবন্দি দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন এ হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার আরো কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে। তবে মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে নাম বলা যাচ্ছে না। যাচাই বাছাই করে অন্য আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। মামলার ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। শ্রীবরদী থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, এজাহার নামীয় ৩ আসামী ও সন্দেহ ভাজন ২ আসামীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধিন রয়েছে। অচিরেই মামলাটির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটির শুরু থেকেই পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আসছে। অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না। তাই অভিযুক্তদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নয়ানী শ্রীবরদী গ্রামের জালাল ব্রিকস্ থেকে গত ২৪ শে নভেম্বর সন্ধায় নিখোজ হয় ভাটাটির পাহাড়াদার একই গ্রামের গোলাপ হোসেনের পুত্র এক সন্তানের জনক সোহেল মিয়া ওরফে বাবু। এ ঘটনায় তার পিতা গোলাপ হোসেন ২৭ শে নভেম্বর নিখোজের অভিযোগ এনে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। যাহার নং-১০৪৬। পরবর্তীতে পরদিন ২৮ শে নভেম্বর জালাল ব্রিকসের অদুরে শ্রীবরদী নিলক্ষিয়া পাকা রাস্তার পার্শ্বে জনৈক ইব্রাহিমের ডোবার কচুরী পানার নিচ থেকে সোহেল মিয়া ওরফে বাবুর মৃত দেহ উদ্ধার করে শ্রীবরদী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় বাবুর বৃদ্ধ পিতা গোলাপ হোসেন পুত্র হত্যার বিচারের দাবীতে ইটভাটার মালিক জালাল উদ্দিনের ২ পুত্র ও ভাটার তিন শ্রমিককে এজাহারনামীয় আসামী করে শ্রীবরদী থানায় ২৯ শে নভেম্বর একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এ মামলায় হাফিজুর রহমান, হারুন রশিদ সদা ও ইস্রাফিলকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কয়েকদিন পর গোলাপ হোসেন একই অভিযোগ এনে সি.আর আমলী আদালত, শেরপুরে ১১জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন।

Charu Barta24 । । চারু বার্তা ২৪

মন্তব্য করুন